puc_logo

Premier University
Center Of Excellence For Quality Learning

puc_logo
-->

প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটিতে দ্বাদশ পিইউডিএস জাতীয় বিতর্ক উৎসবের সমাপনী। চ্যাম্পিয়ন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, সরকারি হাজী মুহাম্মদ মহসীন কলেজ ও মির্জা আহমেদ ইস্পাহানী স্মৃতি বিদ্যালয়।

প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটিতে দ্বাদশ পিইউডিএস জাতীয় বিতর্ক উৎসবের সমাপনী।
চ্যাম্পিয়ন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, সরকারি হাজী মুহাম্মদ মহসীন কলেজ ও মির্জা আহমেদ ইস্পাহানী স্মৃতি বিদ্যালয়।

'চট্টগ্রামের টেকসই উন্নয়নে পাহাড় ও পরিবেশ সংরক্ষণ নাকি অর্থনৈতিক উন্নয়ন—কোনটি বেশি গুরুত্বপূর্ণ?' এই সমসাময়িক ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে কেন্দ্র করে যুক্তি, তথ্য ও বিশ্লেষণে মুখর ছিল প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটি ডিবেটিং সোসাইটি (পিইউডিএস) আয়োজিত দ্বাদশ পিইউডিএস জাতীয় বিতর্ক উৎসব-২০২৬-এর আন্তঃকলেজ বিতর্কের ফাইনাল পর্ব।
তিন দিনব্যাপী এ জাতীয় বিতর্ক উৎসবের পুরস্কার বিতরণ ও সমাপনী অনুষ্ঠান শনিবার (২৫ জুলাই ২০২৬) সকাল ৯টা ৩০ মিনিটে চট্টগ্রাম জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে অনুষ্ঠিত হয়। তার আগে আন্তঃস্কুল, আন্তঃকলেজ ও আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় বিতর্কের ফাইনাল পর্ব অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির মাননীয় উপাচার্য প্রফেসর এস. এম. নছরুল কদির। বিশেষ অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার জনাব মোহাম্মদ ইফতেখার মনির, প্রক্টর জনাব মোহাম্মদ সোলাইমান চৌধুরী এবং দৃষ্টি চট্টগ্রাম-এর প্রতিষ্ঠাতা সংগঠক মাসুদ বকুল। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটি ডিবেটিং সোসাইটির (পিইউডিএস) চিফ মডারেটর জনাব জুলিয়া পারভীন। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন পিইউডিএস-এর মডারেটর সঞ্জয় বিশ্বাস, হিল্লোল সাহা, সাইফুদ্দিন মুন্না ও নিলুফার সুলতানা। স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন পিইউডিএস-এর সভাপতি ফজল আল মাহমুদ অয়ন ও সাধারণ সম্পাদক সিফাত নূর চৌধুরী। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন পিইউডিএস-এর সাবেক সভাপতি সাবের শাহ।
আন্তঃকলেজ বিতর্কের ফাইনাল বিষয়ের প্রস্তাব ছিল— 'এই সংসদ মনে করে, চট্টগ্রামের টেকসই উন্নয়নের জন্য পাহাড় ও পরিবেশ সংরক্ষণ অর্থনৈতিক উন্নয়নের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।' সরকারি দল যুক্তি তুলে ধরে যে, পাহাড় ও পরিবেশ ধ্বংস হলে ভূমিধস, জলাবদ্ধতা ও জীববৈচিত্র্যের অপূরণীয় ক্ষতি হবে, যা দীর্ঘমেয়াদে মানুষের জীবন ও অর্থনীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। অপরদিকে বিরোধী দল যুক্তি দেয়, অর্থনৈতিক উন্নয়ন ছাড়া কর্মসংস্থান, অবকাঠামো ও মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন সম্ভব নয়; তবে সঠিক পরিকল্পনা ও পরিবেশবান্ধব নীতির মাধ্যমে অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং পরিবেশ সংরক্ষণ—দুটিই একসঙ্গে নিশ্চিত করা সম্ভব।
উৎসবে আন্তঃস্কুল, আন্তঃকলেজ ও আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয়—এই তিনটি বিভাগে বিতর্ক প্রতিযোগিতায় আন্তঃস্কুল বিতর্কের ফাইনাল বিষয়ের প্রস্তাব ছিল 'এই সংসদ মনে করে, মাধ্যমিক স্তর থেকেই শিক্ষার্থীদের জন্য কারিগরি শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা উচিত।' আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় বিতর্কের ফাইনাল বিষয়ের প্রস্তাব ছিল 'এই সংসদ, বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তির ক্ষেত্রে ৫০ শতাংশ নারী আসন (জাবি মডেল) বরাদ্দ বাধ্যতামূলক করবে।' প্রতিটি বিভাগেই অংশগ্রহণকারী বিতার্কিকরা সমসাময়িক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে তথ্য, যুক্তি ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রফেসর এস. এম. নছরুল কদির বলেন, বিতর্ক কেবল প্রতিযোগিতা নয়, এটি যুক্তিবোধ, নেতৃত্ব, বিশ্লেষণী দক্ষতা এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ বিকাশের অন্যতম কার্যকর মাধ্যম। শিক্ষার্থীদের তথ্য ও যুক্তিনির্ভর চিন্তাশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে এ ধরনের আয়োজন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটি ভবিষ্যতেও মেধা ও নেতৃত্ব বিকাশে এমন আয়োজন অব্যাহত রাখবে।
বিশেষ অতিথি জনাব মোহাম্মদ ইফতেখার মনির বলেন, বিতর্ক শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস, বিশ্লেষণী সক্ষমতা ও দায়িত্ববোধ গড়ে তোলে। জাতীয় পর্যায়ের এ আয়োজন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে জ্ঞান, অভিজ্ঞতা ও সৌহার্দ্য বিনিময়ের একটি অনন্য প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করছে।
বিশেষ অতিথি জনাব মাসুদ বকুল বলেন, যুক্তির চর্চা একটি আলোকিত সমাজ গঠনের অন্যতম পূর্বশর্ত। তরুণদের মধ্যে বিতর্কচর্চা যত বিস্তৃত হবে, তারা তত বেশি তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে সক্ষম হবে এবং সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে ভূমিকা রাখবে। পিইউডিএস-এর এই উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়।
সভাপতির বক্তব্যে জুলিয়া পারভীন বলেন, জাতীয় পর্যায়ে যুক্তিচর্চা বিস্তারে পিইউডিএস দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে যাচ্ছে। তিনি অংশগ্রহণকারী, বিচারক, অতিথি, মডারেটর ও স্বেচ্ছাসেবকদের আন্তরিক সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জানান এবং ভবিষ্যতেও এ আয়োজন আরও বৃহৎ পরিসরে অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
ষষ্ঠ আন্তঃস্কুল বিতর্ক প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয়েছে মির্জা আহমেদ ইস্পাহানী স্মৃতি বিদ্যালয় এবং রানার্সআপ হয়েছে সরকারি মুসলিম উচ্চ বিদ্যালয়, চট্টগ্রাম। প্রতিযোগিতার সেরা বক্তা নির্বাচিত হন ডাঃ খাস্তগীর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের অমৃতা সিংহ এবং ফাইনালের সেরা বক্তা হন সরকারি মুসলিম উচ্চ বিদ্যালয়, চট্টগ্রামের সাদমান সারার।
ষষ্ঠ আন্তঃকলেজ বিতর্ক প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয়েছে সরকারি হাজী মুহাম্মদ মহসীন কলেজ, চট্টগ্রাম এবং রানার্সআপ হয়েছে চট্টগ্রাম ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক কলেজ। প্রতিযোগিতা ও ফাইনালের সেরা বক্তা নির্বাচিত হন সরকারি হাজী মুহাম্মদ মহসীন কলেজের নুহা আলম।
দ্বাদশ আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় বিতর্ক প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয়েছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ডিবেটিং সোসাইটি (সিইউডিএস) এবং রানার্সআপ হয়েছে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস (বিইউপি)। প্রতিযোগিতার সেরা বক্তা নির্বাচিত হন প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির ফারদিন আলাদিন এবং ফাইনালের সেরা বক্তা হন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্নব মিত্র।
অনুষ্ঠানের শেষে প্রধান অতিথি ও বিশেষ অতিথিবৃন্দ বিজয়ীদের হাতে ট্রফি, ক্রেস্ট ও সনদপত্র তুলে দেন। দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ ও বিদ্যালয়ের বিতার্কিকদের অংশগ্রহণে তিন দিনব্যাপী এ জাতীয় বিতর্ক উৎসব যুক্তি, মেধা, নেতৃত্ব এবং সুস্থ চিন্তাচর্চার এক প্রাণবন্ত মিলনমেলায় পরিণত হয়।

Related News

প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটিতে ‘কন্টিনিউয়াস কোয়ালিটি ইমপ্রুভমেন্ট (সিকিউআই) অ্যান্ড অ্যাক্রেডিটেশন প্রসেস’ বিষয়ক দুই দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালার সমাপনী ।

Read More

প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটিতে ‘কন্টিনিউয়াস কোয়ালিটি ইমপ্রুভমেন্ট (সিকিউআই) ও অ্যাক্রেডিটেশন প্রসেস’ বিষয়ক দুই দিনব্যাপী কর্মশালা শুরু ।

Read More

প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগে ফেয়ারওয়েল প্রোগ্রাম ।

Read More

প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির ফ্যাশন ডিজাইন এন্ড টেকনোলজি বিভাগে ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত

Read More

প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির ব্যাচেলর অব আর্কিটেকচার প্রোগ্রামের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত

Read More

প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির আইন বিভাগে ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত (৫৯তম ব্যাচ)

Read More

প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটি এলএল.বি. (অনার্স), ফল ২০২৬ সেশন (৫৯ ব্যাচ) এর ভর্তি (লিখিত) পরীক্ষার সিট প্ল্যান

Read More

প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটিতে দ্বাদশ পিইউডিএস জাতীয় বিতর্ক উৎসবের সমাপনী। চ্যাম্পিয়ন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, সরকারি হাজী মুহাম্মদ মহসীন কলেজ ও মির্জা আহমেদ ইস্পাহানী স্মৃতি বিদ্যালয়।

Saturday, 25 July, 2026

প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটিতে দ্বাদশ পিইউডিএস জাতীয় বিতর্ক উৎসবের সমাপনী।
চ্যাম্পিয়ন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, সরকারি হাজী মুহাম্মদ মহসীন কলেজ ও মির্জা আহমেদ ইস্পাহানী স্মৃতি বিদ্যালয়।

'চট্টগ্রামের টেকসই উন্নয়নে পাহাড় ও পরিবেশ সংরক্ষণ নাকি অর্থনৈতিক উন্নয়ন—কোনটি বেশি গুরুত্বপূর্ণ?' এই সমসাময়িক ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে কেন্দ্র করে যুক্তি, তথ্য ও বিশ্লেষণে মুখর ছিল প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটি ডিবেটিং সোসাইটি (পিইউডিএস) আয়োজিত দ্বাদশ পিইউডিএস জাতীয় বিতর্ক উৎসব-২০২৬-এর আন্তঃকলেজ বিতর্কের ফাইনাল পর্ব।
তিন দিনব্যাপী এ জাতীয় বিতর্ক উৎসবের পুরস্কার বিতরণ ও সমাপনী অনুষ্ঠান শনিবার (২৫ জুলাই ২০২৬) সকাল ৯টা ৩০ মিনিটে চট্টগ্রাম জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে অনুষ্ঠিত হয়। তার আগে আন্তঃস্কুল, আন্তঃকলেজ ও আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় বিতর্কের ফাইনাল পর্ব অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির মাননীয় উপাচার্য প্রফেসর এস. এম. নছরুল কদির। বিশেষ অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার জনাব মোহাম্মদ ইফতেখার মনির, প্রক্টর জনাব মোহাম্মদ সোলাইমান চৌধুরী এবং দৃষ্টি চট্টগ্রাম-এর প্রতিষ্ঠাতা সংগঠক মাসুদ বকুল। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটি ডিবেটিং সোসাইটির (পিইউডিএস) চিফ মডারেটর জনাব জুলিয়া পারভীন। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন পিইউডিএস-এর মডারেটর সঞ্জয় বিশ্বাস, হিল্লোল সাহা, সাইফুদ্দিন মুন্না ও নিলুফার সুলতানা। স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন পিইউডিএস-এর সভাপতি ফজল আল মাহমুদ অয়ন ও সাধারণ সম্পাদক সিফাত নূর চৌধুরী। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন পিইউডিএস-এর সাবেক সভাপতি সাবের শাহ।
আন্তঃকলেজ বিতর্কের ফাইনাল বিষয়ের প্রস্তাব ছিল— 'এই সংসদ মনে করে, চট্টগ্রামের টেকসই উন্নয়নের জন্য পাহাড় ও পরিবেশ সংরক্ষণ অর্থনৈতিক উন্নয়নের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।' সরকারি দল যুক্তি তুলে ধরে যে, পাহাড় ও পরিবেশ ধ্বংস হলে ভূমিধস, জলাবদ্ধতা ও জীববৈচিত্র্যের অপূরণীয় ক্ষতি হবে, যা দীর্ঘমেয়াদে মানুষের জীবন ও অর্থনীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। অপরদিকে বিরোধী দল যুক্তি দেয়, অর্থনৈতিক উন্নয়ন ছাড়া কর্মসংস্থান, অবকাঠামো ও মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন সম্ভব নয়; তবে সঠিক পরিকল্পনা ও পরিবেশবান্ধব নীতির মাধ্যমে অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং পরিবেশ সংরক্ষণ—দুটিই একসঙ্গে নিশ্চিত করা সম্ভব।
উৎসবে আন্তঃস্কুল, আন্তঃকলেজ ও আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয়—এই তিনটি বিভাগে বিতর্ক প্রতিযোগিতায় আন্তঃস্কুল বিতর্কের ফাইনাল বিষয়ের প্রস্তাব ছিল 'এই সংসদ মনে করে, মাধ্যমিক স্তর থেকেই শিক্ষার্থীদের জন্য কারিগরি শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা উচিত।' আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় বিতর্কের ফাইনাল বিষয়ের প্রস্তাব ছিল 'এই সংসদ, বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তির ক্ষেত্রে ৫০ শতাংশ নারী আসন (জাবি মডেল) বরাদ্দ বাধ্যতামূলক করবে।' প্রতিটি বিভাগেই অংশগ্রহণকারী বিতার্কিকরা সমসাময়িক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে তথ্য, যুক্তি ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রফেসর এস. এম. নছরুল কদির বলেন, বিতর্ক কেবল প্রতিযোগিতা নয়, এটি যুক্তিবোধ, নেতৃত্ব, বিশ্লেষণী দক্ষতা এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ বিকাশের অন্যতম কার্যকর মাধ্যম। শিক্ষার্থীদের তথ্য ও যুক্তিনির্ভর চিন্তাশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে এ ধরনের আয়োজন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটি ভবিষ্যতেও মেধা ও নেতৃত্ব বিকাশে এমন আয়োজন অব্যাহত রাখবে।
বিশেষ অতিথি জনাব মোহাম্মদ ইফতেখার মনির বলেন, বিতর্ক শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস, বিশ্লেষণী সক্ষমতা ও দায়িত্ববোধ গড়ে তোলে। জাতীয় পর্যায়ের এ আয়োজন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে জ্ঞান, অভিজ্ঞতা ও সৌহার্দ্য বিনিময়ের একটি অনন্য প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করছে।
বিশেষ অতিথি জনাব মাসুদ বকুল বলেন, যুক্তির চর্চা একটি আলোকিত সমাজ গঠনের অন্যতম পূর্বশর্ত। তরুণদের মধ্যে বিতর্কচর্চা যত বিস্তৃত হবে, তারা তত বেশি তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে সক্ষম হবে এবং সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে ভূমিকা রাখবে। পিইউডিএস-এর এই উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়।
সভাপতির বক্তব্যে জুলিয়া পারভীন বলেন, জাতীয় পর্যায়ে যুক্তিচর্চা বিস্তারে পিইউডিএস দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে যাচ্ছে। তিনি অংশগ্রহণকারী, বিচারক, অতিথি, মডারেটর ও স্বেচ্ছাসেবকদের আন্তরিক সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জানান এবং ভবিষ্যতেও এ আয়োজন আরও বৃহৎ পরিসরে অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
ষষ্ঠ আন্তঃস্কুল বিতর্ক প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয়েছে মির্জা আহমেদ ইস্পাহানী স্মৃতি বিদ্যালয় এবং রানার্সআপ হয়েছে সরকারি মুসলিম উচ্চ বিদ্যালয়, চট্টগ্রাম। প্রতিযোগিতার সেরা বক্তা নির্বাচিত হন ডাঃ খাস্তগীর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের অমৃতা সিংহ এবং ফাইনালের সেরা বক্তা হন সরকারি মুসলিম উচ্চ বিদ্যালয়, চট্টগ্রামের সাদমান সারার।
ষষ্ঠ আন্তঃকলেজ বিতর্ক প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয়েছে সরকারি হাজী মুহাম্মদ মহসীন কলেজ, চট্টগ্রাম এবং রানার্সআপ হয়েছে চট্টগ্রাম ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক কলেজ। প্রতিযোগিতা ও ফাইনালের সেরা বক্তা নির্বাচিত হন সরকারি হাজী মুহাম্মদ মহসীন কলেজের নুহা আলম।
দ্বাদশ আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় বিতর্ক প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয়েছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ডিবেটিং সোসাইটি (সিইউডিএস) এবং রানার্সআপ হয়েছে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস (বিইউপি)। প্রতিযোগিতার সেরা বক্তা নির্বাচিত হন প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির ফারদিন আলাদিন এবং ফাইনালের সেরা বক্তা হন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্নব মিত্র।
অনুষ্ঠানের শেষে প্রধান অতিথি ও বিশেষ অতিথিবৃন্দ বিজয়ীদের হাতে ট্রফি, ক্রেস্ট ও সনদপত্র তুলে দেন। দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ ও বিদ্যালয়ের বিতার্কিকদের অংশগ্রহণে তিন দিনব্যাপী এ জাতীয় বিতর্ক উৎসব যুক্তি, মেধা, নেতৃত্ব এবং সুস্থ চিন্তাচর্চার এক প্রাণবন্ত মিলনমেলায় পরিণত হয়।

Latest News

Designed and Developed By Premier University Software Section (IT)
Copyright © 2024 Premier University IT. All rights reserved.